সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন সাভির্স চালুর সিদ্ধান্তে আনন্দ মিছিল

নিউজ ডেস্কঃ
সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন সাভির্স চালুর নীতিগত সিদ্ধান্তের অনুমোদনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ প্রকাশ করেছে কুড়িগ্রামের ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ সবর্স্তরের মানুষ। সোমবার সোনাহাট স্থলবন্দর এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে এই আনন্দ মিছিল করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের নতুন রাষ্ট্রদূত চোপ লাল ভুসাল গত রোববার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় আঞ্চলিক যোগাযোগের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি কুড়িগ্রামের মানুষের বহু প্রতীক্ষিত সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন সাভির্স চালুর ব্যাপারেও নীতিগত সিদ্ধান্ত দেন। নেপালের রাষ্ট্র দূতের সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ১৯৬৫ সালে ভারতের সঙ্গে বন্ধ হওয়া রুটগুলো খোলা হচ্ছে। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল-বিবিআইন মোটরযান চলাচল চুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয় বলে জানান প্রেসসচিব। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তাৎক্ষণিক কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের নিকট সোনাহাট স্থলবন্দর নিয়েও আলোচনা করা হয় বলেও জানা গেছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন চালুর ব্যাপারে প্রয়োজনীয়তা এবং বতর্মান অবস্থান তুলে ধরা হয়। অপরদিকে সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালুর নীতিগত সিদ্ধান্তের সংবাদে বন্দর এলাকাসহ গোটা কুড়িগ্রামে আনন্দের জোয়ার বইছে। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ এবং আনন্দ মিছিল করা হয়েছে। এদিকে সোনাহাট স্থলবন্দর সিএন্ডএফ অ্যােিসাসিয়েশন সভাপতি সরকার রকীব আহমেদ জুয়েল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ইমিগ্রেশনের অভাবে ব্যবসায়ীদের ১০ মিনিটের পথ প্রায় ৪শ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। আর ইমিগ্রেশন চালুর অভাবে শুধু মোবাইল ফোনেই ভারতের এক্সপোটার্রদের সঙ্গে কথা বলে এলসি করতে হয়। ইমিগ্রিশন চালু হলে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ীরা সাক্ষাতে কথা বলে মালামালের মান যেমন নিশ্চিত করতে পারবে তেমনি রাজস্বও বেড়ে যাবে। এ ছাড়া যেকোনো সময় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ভারতে যেতে পারবে এবং ভারতের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে আসতে পারবেন। তিনি বলেন, সোনাহাট স্থলবন্দর চালুর মাধ্যমে এই সরকার যেমন অসংখ্য মানুষের কমর্সৃষ্টি করে রুটিরুজির ব্যবস্থা করেছে তেমনি ইমিগ্রেশন চালুর মাধ্যমে আরও ব্যাপকতর মানুষের কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে। এ বিষয়ে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মাগফিরুল হাসান আব্বাসী জানান, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালুর বিষয়টি প্রস্তাব আকারে যথাযথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেই সঙ্গে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এখানে ইমিগ্রেশন চালু করার। তবে আশা করা হচ্ছে দ্রæত দু-দেশের উচ্চ পযাের্য়র সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন হবে।

উল্লেখ্য, ভারতের সাতটি অঙ্গরাজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দরটি চালু হয়েছে ৩ বছর আগে। শুরু থেকেই নানা সীমাবদ্ধতা থাকারও পরও এ বন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে সরকার। তবে ইমিগ্রেশন সুবিধা না থাকায় বিপাকে রয়েছে ব্যবসায়ীরা। ১০ মিনিটের পথ প্রায় ৪শ কিলোমিটার ঘুরে করতে হয় ব্যবসায়িক মিটিং। অপরদিকে দুই দেশের আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের পোহাতে হয় দীঘর্ পথের বিড়ম্বনা। এমন বাস্তবতায় গত ৯ জুন কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী সোনাহাট স্থলবন্দরের পূণার্ঙ্গ কাযর্ক্রম ও অবকাঠোমা উদ্বোধনের সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছিলেন, খুব শিগগিরই এই বন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হবে।

সূত্রঃ যায়যায়দিন