মুক্তিযুদ্ধে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ভুমিকা

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের এই ভূরুঙ্গামারীর ভুমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের নির্দেশে কুড়িগ্রাম মহকুমা ছাত্রলীগের নেতারা স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাথমিক প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করে। ঘোষপাড়াস্থ আহম্মদ আলী বক্সীর গুদাম ঘরের প্রবেশ মুখে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে সীমান্ত এলাকায় ইপিআর এর বাঙালী সদস্যদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে তাদের কে স্বাধীনতা যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেন।আখতারুজ্জামান মন্ডলের নেতৃত্বে ভূরুঙ্গামারী থানার ইপিআর ফাড়ির বাঙালী ইপিআর সদস্যদের সংগঠিত করা এবং ভারতের রাজনৈতিক নেতা ও বি এস এফ এর সাথে যোগাযোগ করা হয়।

২৪ মার্চ ১৯৭১ সালে নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারীর সাংসদ শামসুল হক চৌধুরী নাখারগঞ্জ স্কুল মাঠে মাহতাব উদ্দিন মন্ডলের সভাপতিত্বে এক জনসভায় সাধারণ লোকজন কে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে বলা হয় এবং আসন্ন যুদ্ধের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীতা তুলে ধরা হয়।এর ধারাবাহিতায় ভূরুঙ্গামারী থানা সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। যার সভাপতি ছিলেন শামসুল হক চৌধুরী, সহ-সভাপতি শাহাদত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আওয়ামীলীগ নেতা ফজলার রহমান। কমিটির সদস্য ছিলেন সৈয়দ উদ্দিন মন্ডল, আব্দুল হক (প্রধান শিক্ষক), নবাব আলী চৌধুরী, আব্দুল জব্বার সরকার, মজিবর রহমান (প্যাটলা মজিবর), মজিবর মাস্টার, কফিলউদ্দিন ব্যাপারী, আব্দুল কাদের ব্যাপারী, অধ্যাপক আব্দুল জলিল, অধ্যাপক মজিবর, আমজাত হোসেন খন্দকার,ডাঃ শফিউদ্দিন খন্দকার,মমতাজ উদ্দিন,জয়নাল আবেদিন এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পশির উদ্দিন প্রমুখ।

ভূরুঙ্গামারীর যুদ্ধের অন্যতম ঘটনা গুলো হল, মাদারগঞ্জ বিওপির অবাঙালী সুবেদার আসলাম খান ও তার অনুসারী দের হত্যা, ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় প্রায় বিনা অস্ত্রে জয়মনিরহাট ইপিআর ক্যাম্প দখল, হাবিলদার সুফি ও তার দলকে হত্যা,২৮ মে ভূরুঙ্গামারী দখল, ১৩ নভেম্বর ভূরুঙ্গামারী অপারেশন। উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভূরুঙ্গামারী ছিল ৬ নং সেক্টর এ। ৬ নং সেক্টর এর অন্যতম সাব-সেক্টর ছিল এই উপজেলা। যুদ্ধকালীন সময়ের এখানে এসেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল (অবঃ) আতাউল গনি ওসমানী, তাজউদ্দীন। লে. আসফাকুস সামাদ এই রণাঙ্গনের শহিদ। ১৪ নভেম্বর ভূরুঙ্গামারী হানাদার মুক্ত হয়।

Leave a Comment